April 19, 2026, 11:51 pm

ফতুল্লায় পিতা-পুত্রকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টায় থানায় মামলা হলেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক, আমার কাছে তো ওহী আসে নাই আসামীরা কোথায় আছে তা জানি -তদন্ত কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পিতা-পুত্রকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাহিদ ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনী কুপিয়ে রক্তাক্ত আহত করার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্য জনক বলে অভিযোগ করেছেন আহত ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল মিয়া।
গুরুত্বর আহত বাবুল মিয়া গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগে জানান, আমার বড় ছেলে কাউছার ও আমি গত ১৪ই আগষ্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন ভোলাইলস্হ আমাদের কোম্পানির অফিস ও গোডাউনে ব্যবসায়ীক লেনদেনের হিসাব নিকাশ করা অবস্থায় পূর্ব শত্রুতার জেরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাহিদ, সন্ত্রাসী জিসান, নাছির উদ্দিন নান্নুসহ প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি সশস্র সন্ত্রাসী বাহিনী হঠাৎ অতর্কিত হামলা করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমার মাথায় চাপাতি ও রামদা’র কোপ- আঘাতে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। অপরদিকে আমার বড় ছেলে কাউছার এসয় সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায়, বুকে ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রামদা, চাপাতি, ছোরা, সুইস গিয়ার চাকু ও লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র’র আঘাতে গুরুতর আহত হয়। হামলার পর সন্ত্রাসীরা আমাদের অফিস- গুডাউন ভাংচুর করে এবং ক্যাশে রক্ষিত ব্যবসার নগদ ৩লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের চলে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। এরপর ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু থানা পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত গ্রহণ করেন নাই। ঘটনার তিন দিনের মাথায় বহু কষ্টে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা নং- ৩৯/৫৩৭ তারিখ ১৬/০৮/২০২১ অভিযুক্ত আসামী সন্ত্রাসী নাহিদ, সন্ত্রাসী জিসান ও নাছির উদ্দিন নান্নুসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা রুজু করি। কিন্তু মামলা নেয়া পর্যন্তই যেন পুলিশের কাজ শেষ। অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা এখনো পযর্ন্ত পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করে নাই। এ বিষয়ে আমার পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোন পাত্তা দিচ্ছে না। তাই এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা সংকোচ এবং ভয়ে দিন যাপন করছি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ মোস্তফা কামাল খান সাংবাদিকের কাছে মুঠোফোনে জানান, আমি উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের কারো বাড়ি চিনিনা আর আমার কাছে তো ওহী আসে নাই যে আমি আসামীরা কোথায় আছে তা জানি। বাদী পক্ষের কারো যদি জানা থাকে আসামীরা কোথায় আছে তা হলে আমাকে জানান। সে ক্ষেত্রে আমি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করবো।
পুলিশের এ ধরনের কার্যকলাপ বা ভূমিকায় স্পষ্ট দেখা যায় আসামী পক্ষ বিশেষ কোন ক্ষমতার বলে গুরুতর অপরাধ করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের ধারণা কোন দিকে রয়েছে এই ঘটনাটি পর্যালোচনা করলেই পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন গুরুতর আহত বাবুল মিয়ার পরিবার। তাই গুরুতর অপরাধ করেও আসামীরা প্রকাশ্যে ! পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক প্রশ্নবিদ।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা